ফ্রিল্যান্সিং এ কারিয়ার ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।

এই আর্টিকেলটি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে  ঃ http://www.ittefaq.com.bd/print-edition/cariar/2016/12/07/160859.html
তবে যিনি এডিট করেছেন তার অসাবধানতা বসত কিছু ভুল হয়েছে তাই এখানে সম্পূর্ণ আর্টিকেল টি তুলে ধরলাম।

প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে একথা বলতেই হবে “ সেদিন বেশি দূরে নয় যেদিন মানুষ Made in Bangladesh দেখলে মোটেই অবাক হবেনা বরং আস্থা পাবে।” প্রযুক্তির কল্যাণে আজকে আমরা উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছি আর দেশে বসেই বিদেশের নামি দামি কোম্পানি সাথে কাজ করতে পারছি এবং সেই সাথে খুব ভালো মানের সম্মানী ও পাওয়া যাচ্ছে। হ্যাঁ আপনি ঠিকই ধরেছেন, বলছি ফ্রিল্যান্সিং এর কথা।

ফ্রিল্যান্সিং, বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত পেশা, যার মাধ্যমে একজন দক্ষ লোক যেকোনো যায়গা থেকে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পারে । আমাদের শিক্ষিত সমাজ অনলাইন এ কারিয়ার গড়ার স্বপ্ন ৬-৭ বছর আগেও তেমন দেখিনি কিন্তু বর্তমানে এখন এটা সম্মান জনক পেশায় পরিণত হচ্ছে। সঠিক ধারণা ও জ্ঞান থাকলেই যে কেউ তৈরি করে নিতে পারে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। আপনি যদি অনলাইন এ কারিয়ার গড়ার চিন্তা করে থাকনে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু বিষয় আপনাকে মাথায় রাখতে হবে। কঠোর পরিশ্রম , খুব ভালো মানের যোগ্যতা এবং ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা। বিষয় গুলো নিয়ে একটু ভালো ভাবে আলোচনা করা যাক।

কঠোর পরিশ্রমঃ পরিশ্রম সাফল্যর চাবি কাঠি এ কথা সবার জানা আছে, ফ্রিল্যান্সিং এ আপনাকে ঠিক এই কাজটিই করতে হবে, মানে সফলতার জন্য কঠোর পরিশ্রম।  ফ্রিল্যান্সিং এ দ্বিতীয় সুযোগ বলে কিছু নেই, একটু আলসেমির কারণে কাজ একটু খারাপ হয়েছে ?, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আপনাকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেয়া হবে না, কারণ অনেক অভিজ্ঞ লোক বসে রয়েছে নির্ভুল ভাবে কাজ করে দেয়ার জন্য, সেক্ষেত্রে আপনার ক্লায়েন্ট অভিজ্ঞদের মধ্য থেকে কাউকে সুযোগ দিবে, কারণ আপনি তার আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন।  আবার মাঝে মাঝে একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্সার কে টানা ১৫ ঘণ্টার বেশিও কাজ করতে হয়। এই ধরনের চাপ এর মধ্যে কাজ করার মনোবল থাকতে হবে।

যোগ্যতাঃ আপনার যোগ্যতা যদি ১০০ তে ৯৯ হয়, তাহলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য যোগ্য নয়। আপনার যোগ্যতা ১০০ তে ১০০ ই হতে হবে। কারণ ফ্রিল্যান্সিং এ ক্লায়েন্টরা “মনে হয় পারবো” এ ধরনের মতবাদে বিশ্বাসী নয়। আপনার কাছে তারা দুইটি উত্তর শুনতে চাইবে, “হ্যাঁ” অথবা “না”। হ্যাঁ উত্তর আপনি তখনি দিতে পারবেন যখন আপনার যোগ্যতা ১০০ তে ১০০ থাকবে এবং আপনি আত্মবিশ্বাসী হবেন। ব্যক্তিগত মত থেকে যোগ্যতা প্রসঙ্গে যদি বলতে যাই তাহলে বলতে হবে কম্পিউটার এর সঙ্গে জড়িত এ রকম কিছু সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করাই ভালো। কারণ এতে করে আপনি আপনার মেধা সারা বিশ্বে সহজেই তুলে ধরতে পারবেন। আমাদের দেশে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখান থেকে আপনি কম্পিউটার বিষয়ে ভালো দক্ষতা অর্জন করার সুযোগ রাখেন, এ রকম একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমী। এখানকার কোর্স গুলো অনলাইন কারিয়ার গড়ার জন্য যথেষ্ট বলে আমি মনে করি। তবে অবশ্যই আপনাকে মাথায় রাখতে হবে, একটি প্রতিষ্ঠান শুধু মাত্র পথ প্রদর্শক এর ভূমিকা রাখে, চলতে হবে আপনাকে নিজেই। এছাড়াও গুগল থেকে বিভিন্ন বিষয় সার্চ করে আপনি আপনার দক্ষতা বাড়াতে  পারেন।

ইংরেজিতে দক্ষতাঃ ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা থাকা আবশ্যক। যেহেতু ফ্রিল্যান্সিং এ বেশিরভাগ ক্লায়েন্ট বিদেশি সেহেতু তাদের সাথে ইংরেজিতেই আপনাকে কথোপকথন করতে হবে। ক্লায়েন্টদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা না করতে পারলে আপনি কোন কাজই সফল ভাবে করতে পারবেনা কারণ আপনি তার কাজের দরকারি জিনিস গুলো বুজতে পারবেনা। ইংরেজিতে কথা বলতে এবং লিখতে, দুটোতেই আপনাকে পারদর্শী হতে হবে।

সাধারণত একজন সফল ফ্রিল্যান্সার একটা সময় পরে উদ্যোক্তা হতে পারে। কারণ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে যেয়ে, একজন উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সকল বৈশিষ্ট্য লাগে তা তার মধ্যে তৈরি হয়ে যায়। তাই একজন দক্ষ লোক ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ খুব সহজেই তৈরি করে নিতে পারে।

মোঃ ওমর ফারুক, ফ্রিল্যান্স ই-কমার্স প্রোডাক্ট ম্যানেজার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*